যে সব কারণে গোসল ফরয হয়ঃ-
চারি কারণে গোছল ফরয হয়:
প্রথম কারণ: মনী অর্থাৎ, বীর্য শরীর হইতে উত্তেজনার সহিত বাহির হইলে গোছল ফরয হয়—মনী স্বাভাবিক উপায়ে বাহির হউক বা অস্বাভাবিক উপায়ে বাহির হউক জাগ্রত অবস্থায় বাহির হউক বা নিদ্রিত অবস্থায়, স্বপ্নদোষ হইয়া বাহির হউক বা স্ত্রী সহবাসে, হালালভাবে বাহির হউক অথবা অন্য কোন হারাম ও নাজায়েয ও অসদুপায়ে বা কুকল্পনা, কুকর্ম, কিম্বা হস্তমৈথুন ইত্যাদি দ্বারা বাহির হউক। ফলকথা, মনী মানুষের শরীরের রাজা, এই রাজাই মানুষ জন্মাইবার বীজ, এই বীজের যদি সদ্ব্যবহার করিয়া স্ত্রী-গর্ভে বপন করে তবুও গোছল ফরয হইবে, আর যদি কেহ মহাপাপী হইয়া স্বীয় স্বাস্থ্য, শরীর এবং ঈমান নষ্ট করিয়া হস্তমৈথুন, কুকল্পনা, পুংমৈথুন, গুহ্যদ্বারে প্রবেশ, ব্যভিচার ইত্যাদি দ্বারা এই বীজের অপব্যবহার করে, তবুও গোছল ফরয হইবে। যদি স্বপ্নেও এই বীজ নষ্ট হয়, তবুও গোছল ফরয হইবে।
দ্বিতীয় কারণঃ স্ত্রী-সহবাস করিলে তো স্বামী-স্ত্রী উভয়ের উপর গোছল ফরয হয়ই, এমন কি, যদি কেহ স্ত্রী সহবাস করিতে উদ্যত হয় এবং পূর্ণ সহবাস না-ও করে, কিন্তু উভয়ের লিঙ্গদ্বয়ের খতনার স্থান মিলিত হয়, তখন মনী (বীর্য) বাহির না হওয়া সত্ত্বেও স্বামী-স্ত্রী উভয়ের উপর গোছল ফরয হইবে।
তৃতীয় কারণ : স্ত্রীলোকের হায়েয (মাসিক ঋতুস্রাব) হইলে যখন রক্ত বন্ধ হইবে, তখন পাক হওয়ার জন্য এবং নামায পড়ার জন্য গোছল ফরয হইবে। ইহার বিস্তৃত মাসায়েল হায়েযের পৃষ্ঠায় বর্ণিত হইয়াছে, তথায় দেখিয়া লইবেন।
চতুর্থ কারণঃ স্ত্রীলোকের নেফাছ হইলে অর্থাৎ, সন্তান হওয়ার পর যে রক্তস্রাব হয় সেই
রক্তস্রাব বন্ধ হইলে পাক হওয়ার জন্য এবং নামায পড়ার জন্য গোছল ফরয হইবে। ইহারও
বিস্তারিত মাসায়েল নেফাছের পৃষ্ঠায় বর্ণিত হইয়াছে, তথায় দেখিয়া লইবেন।
১৭। মাসআলাঃ শরীরে উত্তেজনা আসিয়া মনী বাহির হইতে থাকিলে যদি চাপিয়া রাখে এবং পরে উত্তেজনা চলিয়া গেলে মনী বাহির হয়, তবুও যখন মনী বাহির হইবে, তখন গোছল ফরয হইবে।
১৮। মাসআলা: ঘুম হইতে উঠিয়া কেহ কাপড়ে ভিজা বা শুকনা দাগ দেখিলে স্বপ্ন দেখা স্মরণ থাকুক বা না থাকুক, তাহার উপর গোছল ফরয হইবে। এমন কি ঐ দাগ বা ভিজা, মনী কি মযী, এ সম্বন্ধে সন্দেহ হয়, তবুও গোছল করিতে হইবে।
১৯। মাসআলাঃ যদি কাহারও খতনার সুন্নত আদায় না হইয়া থাকে এবং মনী বাহির হইয়া
ঐ চামড়ার মধ্যে আটকিয়া থাকে, তবুও গোছল ফরয হইবে।
২০। মাসআলা: পাপিষ্ঠ পুরুষ যেমন অসদুপায়ে উত্তেজনার সৃষ্টি করিয়া শরীরের রাজা নষ্ট করিলে পাপীও হইবে গোছলও ফরয হইবে, তদ্রূপ কোন পাপিষ্ঠা স্ত্রীলোকও যদি অসদুপায়ে অঙ্গুলি ইত্যাদি শরমগাহের ভিতর ঢুকাইয়া দিয়া কৃত্রিম উত্তেজনার সৃষ্টি করে, তবে মনী বাহির হউক বা না হউক সেও পাপিষ্ঠা হইবে এবং তাহার উপর গোছল ফরয হইবে।
গোছল ফরয হয় নাঃ
১। মাসআলা: যদি কোন রোগের কারণে ধাতু(বীর্য) পাতলা হইয়া বা কোন আঘাত লাগিয়া বিনা উত্তেজনায় ধাতু নির্গত হয়, তবে তাহাতে গোছল ফরয হয় না।
২। মাসআলা: স্বামী-স্ত্রী শুধু লিঙ্গ স্পর্শ করিয়া যদি ছাড়িয়া দেয়, কিছুমাত্র ভিতরে প্রবেশ না করায় এবং মনীও বাহির না হয়, তবে তাহাতে গোছল ফরয হয় না।
৩। মাসআলাঃ শুধু মযী বাহির হইলে তাহাতে কেবল ওযূ টুটিবে, গোছল ফরয হয় না।
৪। মাসআলা: ঘুম হইতে উঠার পর যদি স্বপ্ন ইয়াদ থাকে, কাপড়ে কোনকিছু না দেখা যায়, তবে তাহাতে গোছল ফরয হয় না।
৫। মাসআলা: পায়খানার রাস্তায় চুস-যন্ত্র লাগাইয়া যে পায়খানা করান হয়, তাহাতে গোছল ফরয হয় না।
৬। মাসআলা: মেয়েলোকের যে খুন জারী হয়, তাহা তিন প্রকার হায়েয নেফাস এবং এস্তেহাযা(রোগ)। হায়েয ও নেফাসের খুন রেহেম অর্থাৎ জরায়ু হইতে আসে, তাহাতে গোছল ফরয হয়; কিন্তু এস্তেহাযার খুন রেহেম হইতে আসে না, রোগ বশতঃ অন্য কোন রগ হইতে আসে, তাহাতে গোছল ফরয হয় না। এস্তেহাযার খুন চিনিবার উপায় এস্তেহাযার মাসায়েল দেখিয়া লইবেন।
0 মন্তব্যসমূহ