মহানবী (স:) কবুতরকে কেন শয়তান বলেছেন?
আবু দাউদ শরিফের ৯৩৪ নম্বর হাদিসে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবুতরকে একটা বিশেষ পেক্ষাপটে শয়তানের হিসেবে তুলনা করেছে।কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা, আল্লাহর রাসূল ঠিক কি কারণে কবুতরকে শয়তান বলেছিলেন।অত্যন্ত সুন্দর ও আকর্ষণীয় একটি পাখি, যা সকলেই পছন্দ করে। তাই এই পাখি অধিকাংশ ঘরে পালিত হয়।ঘরছাড়া ও এই পাখিটি বিভিন্ন মাজার এমনকি মক্কা-মদিনায় ও প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়।
তবে মক্কা-মদিনায় মানুষ কবুতরকে খুব বেশি খাবার দেয়, তাই সেখানে দিনদিন কবুতরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কবুতরের ব্যাপারে হযরত নুহ আলাইহি সালাম এর প্লাবনের সময় জ্বদি পাহাড়ে নৌকা থামার পর, হযরত নূহ আলাইহিস সালাম এবং পৃথিবীতে অবশিষ্ট থাকা মানবজাতির একাংশ ভূমিতে বসবাসের জন্য প্রস্তুত হলেন। আশেপাশের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আসার জন্য হজরত নুহ আলাই সালাম একটি কাক কে পাঠালেন। অতঃপর কাকটি উরে গিয়ে একটি ক্ষেত্রের সন্ধান পেয়ে সেখান থেকে গেল আর ফিরে এলোনা। কাক আসতে দেরী হচ্ছে দেখে হযরত নূহ আলাইহিস সালাম একটি কবুতরকে পাঠালেন! অবস্থা দেখে আসার জন্য যে এখন পৃথিবীতে বসবাস করা যাবে কিনা? মহাপ্লাবন শেষ হয়েছে কিনা?
তারপর সেই কবুতর উড়ে গেল এবং কিছুক্ষণ পর একটি জলপাইয়ের পাতা ছুঁটে নিয়ে ফিরে এলো। কবুতরের পায়ে কাদা লেগে আছে বলে হযরত নূহ আলাইহিস সালাম পৃথিবীতে অবশিষ্ট কারী। নৌকার আরোহন কারীরা বুঝতে পারলেন, পৃথিবী এখন বসবাসের উপযোগী হয়েছে । কবুতরের এই কাজের জন্য হযরত নূহ আলাইহিস সালাম কবুতরের জন্য দোয়া করেছিলেন, ফলে কবুতর মানুষের সঙ্গে সহজেই পোষ মানে কি প্রাণী হয়ে গেল। এছাড়াও কবুতর একটি শান্তি প্রিয় প্রাণী। আর নূহ আলাইহিস সালাম দায়িত্বহীনতার কারণে কাকের উপর অসন্তুষ্ট হলেন বদদোয়া দিলেন। ফলে কাক মানুষকে বেশি ভয় পায়।
সুনানে ইবনে মাজাহ এর ২৯৪৭ নং হাদিসঃ সাইবার কন্যা সাফিয়া রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর যখন নিশ্চিত নিরাপদ হলেন, তখন তিনি স্বীয় উটে আরোহন করে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেন। এবং নিজের হাতে লাঠির সাহায্যে হযরতে আছয়াকে চুমু দেন। অতঃপর তিনি কাবার অভ্যন্তরভাগে প্রবেশ করেন এবং সেখানে কাঠের তৈরি একটি কবুতর দেখতে পান। অতঃপর তিনি তা ভেঙে ফেলেন, তারপর তিনি কাবার দরজায় দাঁড়িয়ে তা বাহিরে নিক্ষেপ করেন এবং হযরত সাফিয়া বলেন আমি তা দেখছিলাম। সুতরাং বুঝা যায় কবুতরের মূর্তি, যদিওবা সেটি কাঠের অথবা মাটির হোক তা ঘরে রাখা ইসলাম সমর্থন করে না। সেটা কবুতর হোক আর যেই হোক। ঘরে মূর্তি রাখলে ফেরেশতা প্রবেশ করে না এমনকি কোন প্রাণীর ছবি ও রাখা নাজায়েজ।
যেহেতু কবুতর পোষ মানে, সেহেতু অসংখ্য মানুষ এই কবুতর লালন পালন করে। এতে শরীয়তে কোনো বাধা নেই। অধিকাংশ ওলামায়ে কেরামের মতে, কবুতর লালন করা এর মাংস ভক্ষণ করা শরীয়তে সম্পূর্ণরূপে জায়েজ। কিন্তু কবুতরের ব্যাপারে আবু দাউদ শরীফের ৪৯৪০ হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে কবুতরের পিছনে দৌড়াতে দেখলেন এবং এই খেলায় মগ্ন হয়ে নামাজের ব্যাপারে তাঁকে উদাসীন হতে দেখলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,এক শয়তান আরেক শয়তানের পিছু ছুটছে! অর্থাৎ কবুতরের পিছনে যে ছুটছে সেও শয়তানের
প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়েছে। এই হাদীসটিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বক্তব্য অনুযায়ী , কবুতর কেউ শয়তান বলা হয়েছে ওই বিশেষ প্রেক্ষাপটে।এই হাদিসটির শুনে যারা কবুতর লালন পালন করেন তাদের মন খারাপের কোন কারণ নেই। এই হাদিসে শুধুমাত্র কবুতর দিয়ে খেল তামাশায় লিপ্ত হওয়াটাকে শয়তানি কর্মকাণ্ড বুঝিয়েছে। কিন্তু আপনি কবুতর লালন পালন করে যদি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে চান অথবা আপনি কবুতরের মাংস পছন্দ করেন, তাহলে এটি পালন করতে কোন বাধা নেই। শুধু কবুতরের পিছনে আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করে,নামাজ- কালাম জিকির-আজকার ভুলে যাওয়া যাবে না। এছাড়াও কবুতরের মাধ্যমে জুয়া লটারি ও বিভিন্ন ধরনের হারাম কার্যক্রম পরিচালিত হতো তৎকালীন আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগেও। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৎকালীনসময়ের মানুষ যারা কবুতর নিয়ে এজাতীয় লটারি এবং জুয়া খেলতো,তাদের ওই কর্মকাণ্ডকেই শয়তানি কর্মকাণ্ড বলেছেন। আল্লাহ আমাদের সহি বুঝ দান করুক, আমিন।
0 মন্তব্যসমূহ